ভালবাসার গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভালবাসার গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০১৫

ত্রপার হারিয়ে যাওয়ার গল্প

- আচ্ছা শুভ্র, তুমি কি আমি ছাড়া আর কোনো মেয়ের সাথে কথা বলো?
- আরেহ না, পাগল নাকি! কেন বলোতো?
- না এমনিই, বলো না প্লিজ
- তুমি থাকতে কেন আমি অন্যের পেছনে টাইম ওয়েস্ট করবো বলো তো? আমার কি খেয়ে আর কাজ নাই
- কিন্তু আমার কেন মনে হয় যে তুমি আমার কাছে কিছু লুকোচ্ছ?
- ত্রপা,এটা তুমার ভুল। তুমি তো আমাকে অনেক ভালোবাস তাই এইসব মনে হচ্ছে গো
- আমাকে ছুঁয়ে বলো,আমার কসম?
- এইযে তোমাকে ছুয়ে বললাম....তুমি আমাকে বিশ্বাস করোনা?
- আমার নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করি কিন্তু তাও জানিনা কেনো তোমাকে হারানোর এতো ভয় হয়!তুমি আমাকে ভুল বুঝনা প্লিজ
- হুম অনেক হয়েছে,এখন ঘুমোবে চলো।.....এটা মুখে বললেও মনে মনে শুভ্র ভাবলো ত্রপাকে বিয়ে করে নিজেই বুঝি নিজের বিপদ বাড়ালো-আমার জন্য মেয়েরা পাগল হবে,কথা বলতে চাইবে তাতে তোর কি?তুই তো তোর জায়গাতেই আছিস,নাকি!-ও এইসব ভাবছে আর ওইদিকে ত্রপা পরম শান্তি আর বিশ্বাসে ওর বুকে মাথা রেখেছে!!!

Post Comment

শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৫

একটা নীল আকাশ, চার রঙা মেঘ

১।
রুমটা একদম অন্ধকার। চারপাশ মশা আর হাবিজাবি লক্কর-ঝক্কর জিনিসে ভর্তি। হলের স্টোররুম তো, তাই। টিউবলাইট যদিও একটা আছে কিন্তু তা জ্বালাবার কোন চান্স নেই। ছেলেগুলো পিয়াল আর দিপুকে ধাক্কা মেরে ফেলে যাবার সময় সুইচবোর্ডের কাটআউটসুদ্ধ খুলে নিয়ে গেছে। ইচ্ছামত চড় থাপ্পড় ঘুষি দিয়েও তৃপ্তি মেটে নাই, আবার এই অসহ্য টর্চারিং। ফলাফল, শীত শীত গুমোট অন্ধকারে বসে আপাতত ঠাস-ঠুস মশা মারা। দিপু ঠিক তাইই করতেছে, আর মাঝে মাঝে কি যেন গুনগুনায়। পিয়াল চুপচাপ। ওর নিচের ঠোঁট অনেকখানি কেটে গেছে, রক্ত জমাট। টের পায় কয়েকটা মশা বসছে রক্তের উপর। দিপুর কি অবস্থা জিজ্ঞেস করেনি। ঠোঁট একটু নাড়ালেই কাটা জায়গায় জ্বলে। ডানহাতের পাতা হালকা কাপতেছে, সম্ভবত অনেকগুলো মশা একসাথে কামড় বসানোর কারণে। দিপুর হঠাৎ কাশি ওঠে, জোরে জোরে দম লাগিয়ে কাশে। গলা উগড়ে কাশে আর থু ফেলে। পিয়ালের ধারণা, ঐ থু এর মধ্যে রক্তের ফ্যানাই বেশি।
শীতের রাত; একটু একটু করে সময়ের কাটা বেড়ে চলছে। পাশের রুমে ছেলেগুলোর উত্তেজিত গালিগালাজ শোনা যায়। ঠান্ডা দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে নর্মাল বসে থাকে পিয়াল, দিপু। কিছুক্ষন পর অথবা ভোর হবার আগেই ওদের মেরে ফেলা হবে, এটা ওরা ভালমতই জানে। হলশাখার সাধারণ সম্পাদক রাতুল ভাইকে ফোন দেয়া হয়েছে, সে এলেই ডিসিশন। কাজ শেষে তারপর ওদের লাশদুটো হয়ত ফেলে দিয়ে আসবে ভার্সিটির একদম পিছনের কোন এক চিপায়। কিংবা আসলামের লাশের মত পুরো উধাও করে নাটকীয় প্রতিবাদ সভা সাজিয়ে চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে দোষ দেবে বিরোধী পক্ষের। যেটা ইচ্ছা করতে পারে। এদেশে এসবের নামই তো পলিটিক্স; পলিটিক্সের শিল্প।
দিপু মশা মারার একফাকে খেকিয়ে ওঠে, "ধুর! মেজাজ গরম লাগতাছে! ঐ পিয়াল, তোর কি মনেহয়? আমগো ডিরেক্ট খতম নাকি হাড্ডিগুড্ডি ভাইঙ্গা গলায় ঝুলাবে, হুম?"
- তোর বাচঁতে ইচ্ছা করতেছে, নারে দিপু?

Post Comment

শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০১৫

হেনাবু

পৃথিবী.....
আহ!
আলো,বাতাস।
সবুজ গাছপালা।
পাহাড়,চর।
বৃষ্টি, কুয়াশা,ঝড়!
আরও কত রূপ!
আহ,পৃথিবী!
পিলপিলিয়ে হেঁটে বেড়ানো মানুষ। বিড়বিড় করা খেয়ালী কবি! আনমনা প্রেমিক প্রেমিকা!
একটা সময় আমার নিজের ও প্রেম করার স্বপ্ন ছিল। ভাবতাম,খুব আপন একটা ভালবাসার মানুষ থাকবে। বেশ কিছু পাগলী পাগলী স্বপ্ন থাকবে। তাতে মায়া থাকবে। অভিমানী কান্না থাকবে! ভুল ছিলাম কি? চাওয়াটা ও কি বেশী ছিল?
অথচ,এই পৃথিবীর ই একটা কোণে আমার জন্ম। মায়ের মত মায়াবতী কোন দেশে। সবাই আদর করে ডাকে,বাংলাদেশ!
আমি জানতাম,পূর্ব পাকিস্তান.......!
অর্জুনতলা। নোয়াখালীর ছোট্ট একটা গ্রাম! শান্তির নীড়। যেন স্বর্গ থেকে তুলে আনা হয়েছে একে। এ গ্রামেই আমার জন্ম! আবছা মনে পড়ে,মায়ের ফর্সা ক্লান্ত মুখটা। ঘামে ভেজা হাসি। আমি অবাক হয়ে ভাবতাম,এত্তো মায়া! কারো হয়? আচ্ছা, মা কি এখনও বেঁচে আছেন? এপাশ ওপাশ তাকিয়ে,আগের মত আমাকে খোঁজেন?
আর রুনু? ও কতটুকু হয়েছে? তার হেনাবুর কথা সে মনে রেখেছে তো? বাবু ফিরেছিল তো? নাকী.......
কতগুলো দিন পেরিয়ে গেল! অথচ মনে হয়,এইতো সেদিন ও এই গ্রামের প্রতিটা অলিগলি চষে ফিরেছি আমি! মাঠের পর মাঠ,সরিষাক্ষেত সব ছুঁয়ে দৌড়েছি। খাল-পুকুর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। পাকা কাঁচা ফলের নামকরা তস্কর হয়েছি!
স্মৃতিগুলো কত স্পষ্ট!
কত জীবন্ত!
মনে হচ্ছে কান পাতলে এখনও শুনতে পাব,রুহুল চাচার চীৎকার। রাগে উনি ক্ষেপা ষাড়ের মতই চেঁচাতেন। মায়ের কাছে এসে তার সে কি নালিশ! হাত পা নেড়ে রাগী সব অভিযোগ!
"ভাবী,আন্নের ডাকাইত মাইয়া আঁর হুরা গাছ সাফ করি দিসে! ডাক দিতাম গেছি,হেতি কানেও তুলে ন! ব্যবস্তা নেন কইলাম। বিয়া দিয়া দেন! নইলে,আরও কত আকাম কইরব আল্লা মালুম!"

Post Comment

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০১৫

"অরণীর হাতে সবুজ আইসক্রিম"

এই পড়!পড়! একটা প্রশ্ন পড়তে এত সময় লাগে ? পড় তাড়াতাড়ি ...একটু পর পরই চিৎকার করে উঠছে অন্তু । আজ পড়াতে মোটেও মন বসছে না।। আজ আসতো না, কিন্তু কি আর করা, মাসের ৭ তারিখ অথচ এখনো বেতন পায়নি সে। আসলে বেতন দিতে পারে সেই আশায় আসা , দুই ঘণ্টা যাবত বসে আছে কিন্তু বেতন তো দূরের কথা এক কাপ চা নিয়েও কেউ আসলো না... মাথা টা ঝিম ঝিম করছে এক কাপ চা হলে খুব ভালো হতো কিন্তু এটা তো আর তার মামার বাড়ি না যে চা চাইলেই চা এসে হাজির হবে । তিনটা স্টুডেন্ট পড়ায় অথচ একটা টিউশনিতেও বেতন পায় নি। হাতে এক্কেবারেই টাকা নাই... যদিও টাকা পেলেও তার হাতে টাকা থাকে না কারন ধার পরিশোধ করে আর হাতে একশো টাকাও থাকে না । বাসা ভাড়াও জমে আছে দুই মাসের, নাহ এই মাসে বাসার ভাড়াটা পরিশোধ করতে হবে, দুই মাসের না হোক অন্তত এক মাসের হলেও দিয়ে দিতে হবে, গত কাল বাড়িওয়ালার কথা শুনে মনে হল বিশাল কোন অপরাধ করে ফেলেছে সে, কেউ বোঝে না আর বুঝবেই বা কেন? কর্পোরেট লাইফে সবাই তো স্বার্থপর , আর নিজের প্রাপ্য টাকা চাওয়াটাও তো অন্যায় কিছু না।।
পাঁচটা বছর যাবত ঢাকায় থাকলেও একটা টাকাও বাড়ি থেকে আসেনি , কই থেকেই বা আসবে ? কে ই বা পাঠাবে ? আছেই বা কে? যাও একটা বোন আছে সেও কিছুই করে না, স্বামীর টাকা তো আর ভাই কে পাঠানো যায় না...
নাহ আর বসা যায় না... দীর্ঘ তিন ঘণ্টা যাবত বসে আছে কিন্তু স্টুডেন্ট এর বাবা মা কেউই আসলো না... এমনিতে এক এক দিন পাঁচ ছয় বার এসে খবর নেয় কেমন পড়ায় না পড়ায়, এমন ভাবে কথা বলে যেন বেতন দিয়ে তাকে কিনে নিয়েছে তারা !! আর বেতন দেয়ার সময় হলেই সবাই উধাও !!!

Post Comment

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০১৫

একাত্তর

প্লটঃ একাত্তর 
***
‘ “হ্যালো, হুম, আব্বা, আমি একমাস পরেই আসবো। একটা ভেকেশন আছে তখন। ওকে। খোদা হাফেজ” ফোনটা কেটেই পাশে তাকিয়ে দেখে ক্লার্ক বসে আছে। ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। আগে কখনো কথা হয় নি ক্লার্কের সাথে। খুবই অমিশুক ছেলে। তবে জিনিয়াস হিসেবে পরিচিত। মোটা কাচের চশমার পেছনে নীল চোখদুটো জলজল করছে। গায়ের রঙটা ফর্সা হলেও চেহারায় অস্ট্রেলিয়ান ভাবটা নেই। ঠোঁট পাতলা, কোঁকড়া চুল।
ক্লার্ক বলল, “আমি ভেবেছিলাম, তুমি আপসেট থাকবে”
শরিফা পুরো আকাশ থেকে পড়ল। বাংলায় কিভাবে কথা বলছে ক্লার্ক? টোনে বিদেশী টান থাকলেও এতো নিখুঁত বাংলা জানাটাও অস্বাভাবিক।
ক্লার্ক আবার বলল, “Hey! Are you listening to me?”
“Yes, I am. তুমি বাংলা জানো?”
ক্লার্ক হাসলো। বলল, “শুধু বাংলা না, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, রুশ, মান্দারিন, কোরিয়ান, হিন্দী, উর্দু...”
“ বাস, বাস, হয়েছে। এতো ভাষা কিভাবে জানো?”
“শিখেছি”
“কেন?”
“আমার রিসার্চের জন্য”
“হুম”
“সিরিয়াসলি?”
“হুম”
“রিসার্চের জন্য ভাষা শেখার কী দরকার? অনুবাদ তো পাওয়াই যায়”
“হুম, তা যায়। কিন্তু অনুবাদগুলোতে অনেকসময় পুরোপুরি ভাবটা প্রকাশ হয় না অরিজিনাল বইয়ের”
“হুম। কী যেন বলছিলে?”

Post Comment

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০১৫

"এপিঠ ওপিঠ"

একটা মেয়ে ষ্টেশনে বসে নাকের পানি, চোখের পানি এক করে ফেলছে। দেখতে কুৎসিত লাগার মত ব্যাপার। কিন্তু এই কুৎসিত দৃশ্যটি মানুষ প্রবল আগ্রহ নিয়ে দেখছে। প্রত্যেক সমাজের মানুষ আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মায়। আমাদের সমাজের মানুষজন জন্মায় প্রবল আগ্রহ নিয়ে। সব কিছুতেই আমাদের প্রবল আগ্রহ থাকে। মেয়েটা বিকেল থকেই ষ্টেশনের পাশের টুলে বসে আছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। তার সাথে যোগ হয়েছে মেয়টার চোখের পানি, নাকের পানি। এতক্ষণ কেউ তেমন পাত্তা না দিলেও কয়েকজন মানুষ এখন জটলা পাকাতে শুরু করেছে।
আবিদ পাশের দোকানটায় বসে ছিল। অনেকক্ষণ থেকেই মেয়েটাকে লক্ষ্য করছে। ইদানীং চায়ের সাথে সিগারেট খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে গেছে। চা খেলে সিগারেট বাধ্যতা মূলকে পরিণত হয়েছে। চা খাওয়া কমাতে হবে এজাতীয় কথা চিন্তা করতে করতে মেয়েটার সামনে চলে এল।
‘কি সমস্যা?’
মেয়েটা সম্ভবত এ প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত ছিলনা। অপ্রস্তুত হয়ে চোখ দুটো কপালে তুলে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। হাতের উল্টো পিঠে চোখ মুছে বলল, ‘কিছুনা’।
‘কিছুনা তো এখানে বসে এভাবে ভ্যা ভ্যা করছেন কেন?’

Post Comment

রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০১৫

অপয়া (শুভ্র-শৈল্পী)

অপয়া (শুভ্র-শৈল্পী)
------------------------
***
ক্লাসে ঢুকতেই মেয়েটার দিকে দৃষ্টি গেল আমার। কেমন বিষণ্ণ ভঙ্গীতে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। যেন পৃথিবীর সমস্ত কর্মকান্ডে তার আগ্রহ শেষ। এখন শুধু হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা!
আর তাতে বাধ সেধে বসে আছে এই বিরাট জানালা!
মেয়েটা বরাবরই চুপচাপ। নিজের মত একলা থাকা লোকেদের দলে। নির্ঝঞ্ঝাট। ঝামেলামুক্ত। কারো সাতে কিংবা পাঁচে নেই। ঝগড়া কিংবা আড্ডায় নেই। এমনকি তার উপস্থিতি পর্যন্ত অনেকের কাছে অজানা ছিল বহুদিন।
আমি তাকে আগে কখনোই লক্ষ্য করিনি। দরকার হয়নি আসলে। এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি,যাতে তার প্রতি কয়েকজোড়া চোখের দৃষ্টি পড়ে! আর সেই দৃষ্টি আটকে থাকে কিছুটা সময়! কিন্তু সেদিন ভিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। এম্নিতে মেয়েটা ক্লাসে নিয়মিত। ক্লাস শুরু হওয়ার বেশ আগে হাজির হয়ে যায়। যাতে আলাদা মনযোগ না পড়ে,তার প্রতি। কিন্তু সেদিন.....
রাজন স্যার ক্লাস নিচ্ছিলেন। লেকচারের বিষয়বস্তু অত্যন্ত জটিল। দুর্বোধ্য। এবং কেউই কিছু বুঝতে পারছিলনা বলে,স্যার ভয়ানক রেগে ছিলেন। ঠিক সেই সময়,মেয়েটা কোত্থেকে যেন এসে হাজির হলো। রাজন স্যারের দিকে তাকিয়ে ঝড়ো কাকের মত কাঁপতে কাঁপতে বলল,
"স্যার আসব?"

Post Comment

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০১৫

ছেলেমানুষী

ছেলেমানুষী
-জাহিদ, সময়টা বলতে পারবে?
-হুম। কেন পারবো না?
-বল তাহলে।
-এখন সময় সন্ধ্যা সাতটা বেজে সাইত্রিশ
মিনিট।
-জাহিদ, তুমি ভালো করেই জানো আমি এই
সময়টা তোমার কাছে জানতে চাইনি। চব্বিশ
ঘন্টার হিসেব রাখার জন্য দেয়াল ঘড়িটাই
যথেষ্ট। টিক টিক করে প্রতি সেকেন্ডের
হিসেব দিয়ে যায় সে।
-ও! আমি ভাবলাম ব্যাটারী বোধ হয় গেছে!
রাগ লাগে রিয়ার। বেশ কিছুক্ষন চুপ থাকার
পর বলে,

Post Comment

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০১৫

রোদের মত রূপবতী

রোদের মত রূপবতী
১।
বাইরে অনেক ঝড়বৃষ্টি। দ্রিম-দ্রাম বাজ পড়ছে, বিজলি চমকাচ্ছে। কোথাকার যেন ছাদ ঢালাইয়ের টিন ওড়ার ঠন ঠন শব্দ ভেসে আসছে। বাতাসের চোটে ঘরের পাশে নারকেল গাছটার এলোপাতাড়ি নড়াচড়ার শো শো আওয়াজ বড়বেশি কানে লাগে। বাড়ির দরজা জানালা সব বন্ধ, তবুও। আর মাথার উপর চালে বৃষ্টির একটানা ঝমঝম তো আছেই। এত শব্দের মধ্যে রিনির আসোলে পড়তে ইচ্ছে করছে না, মনোযোগ নেই। সোজা কথায় ঘুম আসছে। ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশ, লোডশেডিং, কাথা একটা জড়িয়ে আরাম করে ঘুমাতে পারলে বেশ হত। কিন্তু আপাতত এই ঘুমের চিন্তা ভুলেও মাথায় আনা যাবে না, কারণ মাত্র ৬ দিন পর এইচ.এস.সি পরীক্ষা। প্রথম পরীক্ষা বাংলা ১ম পত্র। রিনি পিরোজপুর সরকারি কলেজ থেকে পরীক্ষা দেবে। কমার্সের ছাত্রী হিসেবে সে মোটেই ভাল না। এস.এস.সি তে পেয়েছিল "এ মাইনাস"। এবারও হয়ত কোনমতে পাশ করে যাবে। তবে লেখাপড়া বিষয়ে কোন উল্লেখযোগ্য গুন না থাকলেও ওর সবচেয়ে বড় গুন হল, ও অসম্ভব রূপবতী এবং সাংসারিক একটা মেয়ে।
ধুপ করে বই উল্টে মোমবাতিতে ফুঁ দিয়েই রিনির হঠাৎ মনে হল, ভুল হয়ে গেছে। কয়টা বাজে দেখা দরকার ছিল। যদি দশটার বেশি বাজে তাহলে আব্বা তেমন কিছু বলবে না। কিন্তু দশটার আগেই যদি দেখেন রিনি পড়া ছেড়ে উঠে পড়ছে, তখন প্রথমেই তিনি নির্বিকার ভঙ্গিতে আম্মার কাছে যাবেন তারপর শুরু করবেন সেই একই চ্যাচানি।

Post Comment

শনিবার, ৭ মার্চ, ২০১৫

মেঘারণ্যে

মেঘারণ্যে
এক
মনে সুখ থাকলে নিজের জরাজীর্ণ বসতবাড়িটাও প্রাসাদতুল্য মনে হয়, আর ভ্রমণের সাধ জাগলে রেলের লক্কড়ঝক্কড় ট্রেনও উন্নত যান হিসেবে ধরা দেয়। এখানে যাত্রীদের বিনোদনের জন্যে কিছু না থাকলে কি হবে, পাশেই জানালাটা খোলা আছে- প্রকৃতি, পরিবেশ ও লোকালয়ভেদে সেখানে একের পর এক দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। এখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা অপ্রতুল হলে কি হবে- কালিঝুলি মাখা কোচ ফ্যানগুলো তো ঘুরছে, হোক সেটা ঢিমেতালে।
অবশ্য দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর এই পদ্ধতি অধরা যতটা সহজভাবে মেনে নিয়েছে, নিবিড় ততটা নয়। বারবার প্রতীককে গালাগাল দিচ্ছে আর বলছে, "শালা, আর ট্রেন পাইলি না!"
প্রতীক ভেবে পায় না নিবিড়ের এত রাগ আসে কোত্থেকে। টিকেট করার সময় ট্রেন তো আর ডিসপ্লেতে থাকে না যে কোনটা কেমন চড়ে দেখে নিবে।
সুজানার আপাতত এসবে কোন মনোযোগ নেই। কানে ইয়ার-ফোন গুঁজে দিয়ে ও এখন নখে নেইল-পলিশ ছোঁয়ানোয় ব্যস্ত, যেন সহসাই কোন এক তরুণ এসে ওর হাত ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসবে, নখে নেইল পলিশ না দেখলে তরুণটি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাবে।
নিবিড় ভাবছে এই সুজানা আর প্রতীকের যন্ত্রণাই কি ওর জন্যে যথেষ্ট ছিল না, যে আবার উটকো ঝামেলা হিসেবে অধরা এসে জুড়ে বসেছে।
মেয়েটার এভাবে ওদের সাথে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারটা নিবিড়ের কাছে এখনও এক রহস্য। গত কয়েকদিন কতভাবে বলা হয়েছে ওকে, রাজী হয়নি। অথচ আজ সকালে হুট করে ফোন দিয়ে জানাল যে ও যাচ্ছে।

Post Comment

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০১৫

মনময় = মন্ময়

মনময় = মন্ময়
================
***
শুক্রবারে নিজের চেম্বারে বসি। রোগীর ভিড় লেগেই থাকে। সেদিনও দেখছিলাম। 'আলপনা' নামের ছাব্বিশ-সাতাশের একটি মেয়েকে নিয়ে এসেছিলো তার হাজব্যান্ড মৃদুল। আলপনাকে চেকআপের পর বললাম- "দেখুন,patientএর যা অবস্থা দেখলাম,উনাকে হসপিটালে অ্যাডমিট করা উচিত। আমার চেম্বারে না এনে-"
"ওকে হসপিটালে ভর্তি করতে চাই না", মৃদুল বলল।
"patient কিন্তু dangerous, বাসায় সামলাতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না। কতদিন ধরে এই অবস্থা?"
"তিন মাস ধরে।Dr., আপনি just মেডিসিনগুলো prescribe করে দেন প্লিজ।"
"দিচ্ছি। মনে রাখবেন, একদিনের জন্যও এগুলো discontinue করা যাবে না।"
"Dr.,একটা request ছিল।"
" জি,বলুন।"
"ওর সুস্থ হওয়াটা খুব জরুরী।আপনার diagnosisএর সুবিধার জন্য আলপনার লেখা বেশ কিছু পেপারস এনেছি। যদি দেখতেন..."
"দেখুন, diagnosis হয়ে গেছে।আমি psychiatrist,psychologist নই যে-"
"জানি, আপনার কাছে আসার আগে একজন psychologistকে দেখিয়েছি।"
"আচ্ছা,রেখে যান। সময় হলে দেখব।"

Post Comment

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

হারিয়ে তোমায় খুঁজে ফিরি.......

টিং টিং টিং........ঘণ্টা বেজে উঠার পর ফারহানের ঘোর হঠাৎ ভেঙ্গে গেল। সারারাত অঘুমা থাকার পর এখন ক্লাস করতে আসা তার উপর আবার টিচারের বোরিং লেকচারের চেয়ে ঘুমানোটাই তার বেশি পছন্দ হল। টিফিন ছুটির পরও সে ঘুমে ব্যস্ত। হঠাৎ ঠাস!!!! কে কে বলে আচমকা দাড়িয়ে গেল ফারহান। কে যেন ওর মাথায় খুব জোরে থাপ্পর মেরেছে। আশেপাশে তো কাউকে দেখছে না কিন্তু কিছু দূরে বসে থাকা এক ক্লাসমেটের দিকে চোখ পরল। হাসছে ; একবার ফারহানের দিকে তাকিয়ে আর একবার দরজার দিকে তাকিয়ে। বুঝতে পারল যে কাজটা করেছে সে কোথায় লুকিয়ে আছে তাই আর ডানে বামে না তাকিয়ে সোজা দরজার কাছে চলে এলো ইনস্ট্যান্ট প্রতিশোধ নেয়ার জন্য। দরজার কাছে এসে সমস্ত শক্তি এক করে দিল এক লাথি। আউউউউউ !!!!!! দরজার ওপাশ থেকে আসা চিৎকার শুনে ক্লাসে থাকা অন্যরা রীতিমতো ভয় পাবার উপক্রম। ফারহানতো এতক্ষণ হাসছিল কিন্তু ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা মানুষটাকে দেখার পর কোঁকড়া চুল সব সাথে সাথে খাঁড়া হয়ে গেল,হাসিটাও কোথায় যেন উধাউ হয়ে গেল। তবে আশেপাশের সবাই ইতিমধ্য হাসাহাসি শুরু করে দিলো।না হেসে যাবে কোথায় , মানুষটি যে আর কেউ ছিল না বরং ফারহানের গার্লফ্রেন্ড তিন্নি ছিল। opsssss !!!!!!
ফারহান আর তিন্নি স্কুলজীবন থেকেই একে অপরকে চেনে। পরিচয়টা ঝগড়া দিয়ে শুরু হয়েছিলো বলে পুরো স্কুলজীবনটাই কেটে গেল ঝগড়া আর মারামারিতে, স্কুলজীবনও শেষ হল শত্রুতার মধ্য দিয়ে।পরে অবশ্য একই কলেজে ভর্তি হবার পরও তাদের ঝামেলা হতো।ফারহান খুব দুষ্টু স্বভাবের, সুযোগ পেলেই লেজ ধরে টানাটানি শুরু করে দেয়।তিন্নি কিছুটা ভাব দেখাতো আর কথায় কথায় খুব রেগে যেতো কিন্তু সেও কম দুষ্টু ছিল না। এদের শত্রুতার গল্পের মোড় হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ালো এক ঈদের দিন। কাকতালিওভাবে ফারহান ও তিন্নির বাবা বন্ধু বিধায় এক ঈদের দিন তারা তিন্নিদের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলো। ঐ সুবাদে তাদের দেখা,তারপর ফ্যামিলি চাপে ভালভাবে কথা,অতঃপর ভাল বন্ধু হয়ে যাওয়া।কালের আবর্তনে আজ তাদের সম্পর্কটা আরও গভীর, একে অপরকে খুব ভালবাসে।কিন্তু মারামারি করার অভ্যাসটা যেন গেল না। গত কয়েকমাস আগে যখন ফারহান তিন্নিকে প্রপোজ করেছিল তখন রাগের মাথায় সে হাতের মোবাইলটা দিয়ে মেরে ফারহানের মাথা ফুলিয়ে দিয়েছিলো। কারণটা খুব একটা অস্বাভাবিক ছিল না, ফারহান এত দেরিতে কেন ওকে I love u বলেছিল এতেই সে ক্ষেপে গিয়েছিলো,পরে আবার নিজ হাতে বরফ লাগিয়ে দিয়েছিলো। তারপর থেকে ফারহান ওকে খুব ভয় পায়,এক আধটু দুষ্টুমি করে তবে অনেক সাবধানে।

Post Comment

ভালবাসার খোঁজ...

একচোখ খুলে তূর্ণাকে দেখে আবার পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো আসিফ ।
কি যন্ত্রণা ! উঠো না কেন ? সেই কখন একবার চা দিয়ে গেছি । ঠাণ্ডা বানায় ফেলছো । আবার বানায় আনছি , তুমি এখনো ঘুমাইতেছো ।এখন যদি না উঠছো তোমার খবর আছে ।

আশ্চর্যতো ! প্রতিদিন সকালে এক কাহিনী । ঘুমাইতে দিবা নাকি ?

অফিস কি আমি করবো ?

আসিফ আর সাড়া দেয়না ।

দিলাম কিন্তু ঢেলে ।
বলেই একটানে চাদরটা টেনে সরিয়ে দিলো তূর্ণা । লাফিয়ে উঠলো আসিফ ।
দ্যখো , ভালো হবেনা বলছি । ঠাণ্ডা লাগে । চাদর দাও ।

দিবো না । করো যা খুশি ।

বিছানা থেকে উঠতে যায় তূর্ণা । পেছন থেকে হ্যাঁচকা টানে আসিফ নিজের কোলের উপর শুইয়ে দেয় তূর্ণাকে ।

Post Comment

খুকির ডায়েরি কিংবা ডাহুক পাখির গল্প

সিগারেটের জন্য পকেটে হাত দিয়ে হতভম্ব হয়ে যায় আতিক। গতকাল তার খোলা প্যাকেটে চারটি সিগারেট ছিল। ইদানিং সিগারেট কমিয়ে দিয়েছে সে। দিনে সাত থেকে আটটার বেশি খাওয়া হয় না। ভেবেছিল আজ নতুন প্যাকেট কিনবে, কিন্তু পকেটে হাত দিয়ে দেখে আস্ত নতুন একটি সিগারেটের প্যাকেট। আজকাল অনেক কিছুই মনে থাকে না তার। সে নিজেও বুঝতে পারছে যে পার্থিব ব্যাপারগুলোয় সে আনমনা। কিন্তু সিগারেট কিনে ভুলে যাওয়ার মত এতটা আনমনা সে নয়। প্যাকেট খুলে মাঝ থেকে একটি সিগারেট ধরিয়ে আবার হাটতে শুরু করে সে।


আতিক এখন ইন্দিরা রোডের থেকে পশ্চিম রাজাবাজারের দিকে একটি গলি দিয়ে হাটছে। হাটছে আর দু’পাশের বাড়িগুলোর দিকে তাকাচ্ছে। না বাড়ি ঘরের দিকে তাকিয়ে থাকা তার শখ না। সে বোর্ড খুজছে,  যে বোর্ডে কালো রঙয়ের উপরে সাদা রঙে লিখা থাকেTo-let. এইমাসে আতিকের একটি চাকরি হয়েছে, খুব ভালো বেতনের চাকরি। ভার্সিটি থেকে বেড়িয়েছে চার বছর হলো। এই চার বছরে অন্তত চার’শ ইন্টারভিউ সে দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু কোথাও কোন কাজ হয়নি। শেষে চার বছর পরেই একটা চাকরি হয়ে গেলো, তাও আবার খুব ভালো বেতন। চাকরির জন্য মামা চাচার ধরনা দিতে হয়নি ভেবেই কেমন যেন উৎফুল্ল লাগছিল তার। এবার শুধু একটি ভালো বাসা পেলেই হাপ ছেড়ে বাঁচবে। 

Post Comment

" এই তো প্রেম "

১০-১০-১০
সন্ধ্যাটা আসি আসি করছে । একটু পরই ঝুপ করে সূর্যটা ডুববে....অদ্ভূত একটা ভালো লাগায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে আমার মন। অফিস আওয়ার শেষ হবার আগেই আজ বেরিয়ে এসেছিলাম। যত দ্রুত সম্ভব বাসায় যেতে হবে যে আমাকে। কাল রাতে কথাটা আসিফকে বলতেই পারিনি। আর সকালে তাড়াহুড়ার চোটে বলাই হয়নি। যথন জানলাম তখন অনেক রাত,হঠাত্‍ ঘুম ভেঙে যাওয়ায় বারান্দায় বসে গান শুনছিলাম। ফোনটা অন করতেই মেসেজটা এলো। আমি তো খুশিতে স্থান-কাল-পাত্র ভুলে একটা ছোটখাটো চিত্‍কারই দিয়ে উঠলাম। তারপর ছুটে ঘরে এলাম। গভীর ঘুমে ওকে দেখে এতো মায়া লাগছিলো ! ওর কপালে আলতো একটা চুমু খেয়ে অনেকটা সময় ওর পাশে বসে রইলাম ।
সকালে শুধু গাড়িতে বসে এতটুকু বলেছিলাম, ' আজ একটু তাড়াতাড়ি বাসায় এসো । কাজ আছে । '

কিন্তু ,কথাটা এমন সাদামাটা ভাবে বললে হবে?? সকালে শাহবাগে অনেক গোলাপ একসাথে পাওয়া যায়। এখন প্রায় সাড়ে ৩টা বাজে। কয়টা পাওয়া যাবে জানি না, আর পাওয়া গেলেও কতটা তাজা আছে কে জানে? তবু ও গাড়িটা ঐদিকেই ঘুরালাম।
মেয়েরা এমনিতেই খুঁতখুঁতানি টাইপের হয় আর আমি তো আর এক ডিগ্রী উপরে। এই দোকান থেকে দুইটা তো ঐ দোকান খেকে তিনটা এভাবে কোনোমতে ১০০টা লাল গোলাপ কেনা হলো। একটা শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে হলমার্কসে আসতেই পড়লাম বিশাল জ্যামে। অন্যদিন হলে ইতোমধ্যে জ্যামকে কয়েক দফা গালিগালাজ করা হয়ে যেতো। কিন্তু আজ আমার সবকিছুই ভালো লাগছে । সব কিছু ।
একটা লাভ শেইপড ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক কুপারস থেকে কিনে সোজা বাসা । পুরাটা ঘর সাজাতে হবে । আসিফের পছন্দের সব আইটেম আমাকে রান্না করতে হবে । অনেক কাজ ।

Post Comment

কিছু মুহূর্ত ভালবাসার সাথে....

বাস-স্ট্যান্ড এ অনেক রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হচেছ, বিরক্ত লাগছে। অবশ্য সিলেট যাওয়ার সময় সব সময় বিরক্ত লাগে এনির,এতদিন হয়ে গেল তবু ক্যাম্পাস, হল এখনো খুব বেশি আপন হতে পারে নাই। বাসা থেকে যাবার সময় প্রতিবার মন খারাপ হয়। মোবাইল বাজছে, মনে হয় সবুজ ফোন দিচেছ। এই সময় ফোন দেয় কেন? বাসা থেকে বের হবার সময় তো বলছি একটূ পর বাসে উঠব। এই ছেলের ফোন দেয়ার কোন ঠিক ঠিকানা নাই, কখনো তিন চার দিন কোন খোজ নেই, কোন ফোন নেই, আবার কখনো তিন চার মিনিট পর পর ফোন। ফোনটা রিসিভ করল এনি,
এনি, হ্যালো;
সবুজ, কই তুমি;
এনি, কই আবার থাকব, বাস-স্ট্যান্ডে ; তোমারে না একটু আগে বললাম বাস-স্ট্যান্ডে  যাই ১০ টার বাসে সিলেট যাব;
সবুজ, ও হ্যাঁ, বলছিলা তো আছা যাও। রাখি।

সবুজ ফোন টা রেখে দিল। বাস এখনো আসে নাই আরেকটু কথা বললে কি হতো। কিন্তু এই ছেলে এমনি ,কখন এনি তার সাথে কথা বলতে চায়, কখন এনি তাকে একটু কাছে চায় কখনই বুঝে না । মাঝে মাঝে মনে হয় এই ছেলের সাথে তার যে সম্পর্ক তা যে কিসের এনি নিজেও জানেনা।

Post Comment

আহ ...

সুরজিতের মনে হল একফোঁটা বৃষ্টি পড়ল। হ্যাঁ, বৃষ্টিই তো! এইতো জারুল গাছটার নিচে ছোট লজ্জাবতীর পাতার উপর একফোঁটা বৃষ্টি জমে আছে। টলটলে ফোঁটাটা সদ্যজাত। ধুলায় ধূসরিত লজ্জাবতীর পাতায় নিজেকে ধরে রাখতে পারছে না। এই বুঝি পড়ে যাবে। মাটিতে গিয়ে মিশে যাবে চিরতরে। যখন বৃষ্টি ফোঁটাটা মাটিতে পড়বে ঠিক তখনই সুরজিতের মনে হল সত্যি বৃষ্টি পড়ছে। এক ফোঁটা বৃষ্টি তার বা হাতের কব্জিতে পড়েছে। এইতো সেই বৃষ্টি। 

বৃষ্টির কথা মনে হলে সুরজিতের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে খুব। বৃষ্টি শুরু হলে তাকে ঘরে ধরে রাখা যেত না কখনো। ঝড়ে পড়ে থাকা আম কুড়াতে গিয়ে একদিন তার মনে হল হয়তো মানুষের জীবনটাই এমন। অপেক্ষা করে ঝড়ে যাওয়ার জন্য। এভাবেই সে চিঠি লিখেছিল বালিকাকে। স্কুল পেড়োনো বালিকাটি প্রতি সপ্তাহে চিঠি লিখত সুরজিতকে। বালিকা ঝড়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হতে পারেনি। তার যুক্তি শুধু ঝড়ে যাওয়া কেন, ঝড়ে যাওয়ার পূর্বে জীবনটা কি অনেক সুখের নয়? সুরজিত মেনে নিয়েছিল বালিকার কথা, মনে নিয়েছিল কি না তা জানি না তবে সে খুব সুন্দর কবিতা লিখেছিল এ ঝড়ে যাওয়া নিয়ে। বালিকার তখন বেজায় রাগ সুরজিতের উপর। কেন সে ঝড়ে যাওয়া নিয়ে কবিতা লিখবে? সে কেন বালিকাকে নিয়ে কিছু লেখে না? বালিকা অপেক্ষায় থাকে।

Post Comment

বিয়ে বাড়ি আর আমার গালে রমণীর পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ।

বিয়ে বাড়ি। চারিদিকে হৈ হুল্লোর। সবার মাঝে কেমন যেন উৎসবের আমেজ। হাসি ঠাট্টা, রঙ তামাশা সবাইকে ছাপিয়ে যায়। কিশোর কিশোরী ছেলে মেয়েদের জন্য বিয়ে বাড়িটা সবথেকে মজার স্থান। আমারও ভালো লাগে। অন্তত সবার মুখে হাসি দেখা যায়। আসলে দেখতে দেখতে কখন যে আমার বিয়ের বয়স হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। সরকারি হিসেবে ছেলেদের বিয়ে করার নূন্যতম বয়স একুশ বছর, আমার চলছে সাড়ে চব্বিশ। পড়াশোনা শেষ করে মাত্র একটা চাকরীতে ঢুকলাম।ঠিক চাকরী না, একটা বেসরকারী ব্যান্কে ইন্টার্নীতে আছি। আমি নিজেই বুঝতে পারি আমার বিয়ের বয়স হয়েছে, কারন এখন মেয়েদের সাথে প্রেম প্রেম খেলে আগের মত মজা পাই না। আজ গায়ে হলুদ। কিন্তু ভীষন আক্ষেপের বিষয় হল বিয়েটা আমার না। আমার মেঝ মামার বড় ছেলের বিয়ে। একদিন আগে থেকেই আমরা সবাই মেঝ মামার বাড়িতে। বিশাল তিনতলা বাড়ি, ঢাকা শহরে আমার মামার বাড়িটিই যৌথ পরিবারের জন্য বেস্ট বলে আমার কাছে মনে হয়। আর চার মামার একমাত্র বোনের একমাত্র ছেলে হওয়াতে আমার কদর অন্যরকম।  বিয়ের বাজেটের একটা অংশ আমার হাতে দেয়া হয়েছে ডেকোরেশন জন্য। নিজেকে খুব দ্বায়িত্বশীল ছেলে বলবো না। কারন? একটু পরেই জানবেন।

সকাল থেকেই মন মেজাজ একশো তিন ডিগ্রি গরম। এদিকে এবার বেশ গরমও পড়েছে। আবহাওয়া অফিসে এসি চলে তাই তারা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বলে, আমার মনে হচ্ছে কম হলেও ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হবে। আমার মেজাজ গরম হওয়ার অবশ্য অন্য একটি কারন আছে। এত আশা নিয়ে বিয়ে বাড়িতে এলাম, অথচ এখনো কোন সুন্দরী মেয়ে দেখলাম না ! এটা কেমন কথা?

বিকেল হয়ে এসেছে। মন খারাপ নিয়েই কাজিনদের সাথে আড্ডা দিতে লাগলাম বাড়ির ছাদে। স্টেজ সাজাতে হবে। বিয়ে বাড়িতে যে স্টেজ সাজায় তার দিকে সবার একটা এক্সট্রা নজর থাকে, বিশেষ করে মেয়েদের। মেয়েরা দ্বায়িত্বশীল ছেলে ভালোবাসে, কিন্তু স্টেজ সাজানো যে খুব একটা দ্বায়িত্বের কাজ সেইটা আমার কাছে মনে হয় না। আড্ডায় প্রান পাচ্ছি না, তাই ছাদের একপাশে রেলিং এর কাছে যেয়ে উদাস প্রেমিকের ভঙ্গীতে দাড়ালাম। নীচে চোখ পড়তেই আমার চোখ ছানাবরা। এ কি দেখলাম আমি! এও কি সম্ভব! একটা মেয়ে এত্ত সুন্দর হতে পারে? আহা! কি সুন্দর চোখ, সুইটেবাল নাক, মিষ্টি ঠোঁট, রেশমি চুল, কি সুন্দর ফিগার,  মেয়েতো নয় যেন টইটম্বুর ভরা কলসি!  কেয়ামতের আগে এই শেষ সময়ে এত সুন্দর মেয়ে খোদা কিভাবে বানালো? কিভাবে ? পুরাই টাস্কি খাইয়া গেলাম।

রিনিঝিনি সূর তুলে ভারা কলসি আমাদের বিয়ে বাড়িতেই আসছে। নিশ্চই বিয়েতে ইনভাইটেড। আমার শীতের ঝরা পাতা যেন হঠাৎ করেই দুইমাস এগিয়ে বসন্ত ছুঁয়ে দিলো। প্রান ফিরে পেলাম। আমাকে অবাক করে দিয়ে  ভরা কলসি নীচ থেকে আমার দিকে তাকালো। আমার চারিদিকে হিন্দি সিনেমার মত ঝরো বাতাস আর গোলাপের পাপড়ি উড়ে যেতে লাগলো। ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক, " জাব সে তেরে ন্যায়না মেরে ন্যানোসে লাগে রে...."

এরই মধ্যে কখন যে আমার এক চামবাজ মামাত ভাই এসে আমার পাশে দাড়িয়েছে খেয়াল করিনি। বদমাস আমাকে খোঁচা দিয়ে বললো, " ভাই, মাইয়াটা জাস্তি, তাই না?" নাহ, এইটা সহ্য করা যায় না। আমি মামাত ভাইকে স্ট্রেট বললাম, " দেখ আমার নজর পরছে এই মেয়ের উপরে, সুতরাং এইটা তোর ভাবি। সাবধান।" এইবার হারামি বাংলা সিনেমার ভিলেনের হাসি দিয়ে বললো, " এই মেয়ে আমার কাজিন হয়। আমার চাচার মেয়ে।"

কিছুক্ষন পরে ভরা কলসি ছাদে এসে হাজির, আর আমি হা করে তাকিয়ে আছি। আমার হার্টবিট বেড়ে গেছে আর ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক বাজতেছে," এক লারকি কো দেখা তো এইসা লাগা......।" আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম যে জেরিন, মৌমি, তুশি কিংবা অবনীর সাথে প্রেম করার সময়তো আমার এমন ফিলিংস হয় নাই! কিন্তু এই মেয়েকে দেখেই আমার চারপাশে কেমন অদৃশ্য রোমান্টিক গান বাজতে থাকে। তাহলে কি আমি সত্যি প্রেমে পরে গেলাম নাকি? অ্যা বার্নিং কোশ্চেন!

Post Comment

কিছুটা প্রেম আর বাকীটা ভালোবাসা

মুখ ভার করে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো বৃষ্টি। আমাকে চমকে দিয়ে হঠাৎ আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেই ফেললো , " আমি তোমাকে ভালোবাসি" ; ঘটনার আকস্মিকতায় আমি ততক্ষনে বোকা বনে গেছি। চারিদিকে তাকিয়ে দেখলাম কেউ দেখছে নাকি। কোনভাবে বৃষ্টির বাহুবন্ধন ছারিয়ে দৌড়ে পাশের ঘরে আম্মুর কাছে গেলাম। সেখানে আম্মু আর বৃষ্টির মা গল্প করছিলেন। আমি আম্মুর কোলে যেয়ে কাঁদো কাদোঁ হয়ে বলে দিলাম, "আম্মু বৃষ্টি বলে ও নাকি আমাকে ভালোবাসে। আমাকে ছারা নাকি বাঁচবে না। আমার এখন কি হবে আম্মু। ও কত পঁচা মেয়ে।" আমি হাউ মাউ করে কেঁদেই ফেললাম। আমার কান্না না থামিয়ে দুই মহিয়সী নারী তখন আমার কথা শুনে অট্টহাসিতে ব্যাস্ত।


আমার বয়স তখন সাত কি আট বছর আর বৃষ্টি পাঁচের আশেপাশে। সেই বয়সে আমি সুকুমার রায় কিংবা তিন গোয়েন্দা পড়ে বিশাল জ্ঞানী আর বৃষ্টি সারাদিন বাংলা আর হিন্দি সিনেমা দেখে ভীষন রোমান্টিক মেয়ে। আমাকে দেখলেই গান শুরু করতো, " তুম পাস আয়ে, ইউ মুজকো রায়ে..." বৃষ্টির আচার আচরন তেমন পছন্দ না করলেও বৃষ্টিকে ছারা আমার কোন উপায় ছিল না। চারদেয়ালের বন্দী জীবনে বৃষ্টিই ছিল আমার খেলার সাথী অথবা বলা যেতে পারে সবথেকে ভালো বন্ধু। আমি যখন ওকে হারকিউলিসের অভিযানের গল্প শোনাতে চাইতাম ও উল্টা আমাকে হিন্দী মুভির রিভিউ শুনিয়ে দিতো। খুব ভালো নাচতে পারতো, হাত পা কোমড় দুলিয়ে নেচেও দেখাতো। মাঝে মাঝে গলার ওড়না ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কি একরকমের নাচ দিত যা সেই বয়সে আমার জ্ঞানের বাইরে ছিল। দু একবার সর্প নাগিনের নাচ দেখার সৌভাগ্যও আমার হয়েছিল।

Post Comment

ম্যানচেষ্টার সিটি শপিংয়ে ঘুরছিলাম। ভালো একটা শার্ট কিনতে হবে। সাথে আছে বন্ধু স্যাম। সাদা চামড়ার বিদেশি নাম হলেও সে আমার ছোট বেলার বন্ধু। বাইরে এসে সামিউল থেকে স্যাম হয়েছে। দেশের পড়ালেখা শেষ করে দুজন একসাথেই বাইরে পারি জমিয়েছিলাম ইংল্যান্ডে। একটা কোম্পানীতে ফিন্যান্সে কাজ করছি। সপ্তাহে ছুটির দিন রবিবার। সুতরাং বাকি ছয়দিন যে যেখানেই থাকিনা কেন, এই দিনটা দুজনে একসাথে কাটাই। আজকেও বেরিয়েছি দুজনে। নেটে দেখেছিলাম রিভার আইল্যান্ডে আমার প্রিয় চেকে একটা শার্ট। সেটাই নিতে এসেছি মূলত। সেল উইক চলছে, তাই শোরুমে একটু ভিড় ছিল। ঠেলেঠুলে পেছন দিকটায় যেয়ে খুঁজছিলাম কমলা আর কালো চেকের শার্টটা। হঠাৎ করেই চোখ পরলো সাদা স্যালোয়ার কামিজের একটি মেয়ের দিকে। পেছন থেকে দেখতে বাঙালি মেয়ের মত লাগছে। কিন্তু মেয়েটার চুলগুল কেমন যেন চেনা। আগে কোথাও দেখেছি মনে হচ্ছে। 

মেয়েটি আমার দিকে ঘুরতেই অবাক হয়ে গেলাম। মেয়েটির হাতে আমার পছন্দের সেই শার্ট। আসলে অবাক হওয়ার কারন শার্ট নয়। চুলগুল আমি ঠিকই চিনেছি। নিতি ! নিতি আর আমি একসাথেই পড়তাম। আমি ছিলাম ভার্সিটির সুপারম্যান আর নিতি সাধারন কালো ফ্রেমের চশমা পরা চুপচাপ একটা মেয়ে। গায়ের বর্ন হলদে সাদা আর ছিপছিপে শরীর। চেহারার মাঝে অন্যরকম একটা মাধুর্য। আমি কোনদিনই ওর কাছে বিশেষ পাত্তা পাইনি। দুইবার প্রপোজ করেছি, দুইবারই ভয়ে কেঁদে দিয়েছে। সে কি কান্ড। বাংলা সিনেমার ভিলেনের সামনেও নায়িকা ইজ্জত ভিক্ষা চেয়ে এতখানি কাঁদে না। নিরহ এই মেয়েটাকে জ্বালাতন করতেই আমার কেমন যেন ভালো লাগতো। 

Post Comment