বিয়ে বাড়ি। চারিদিকে হৈ হুল্লোর। সবার মাঝে কেমন যেন উৎসবের আমেজ। হাসি ঠাট্টা, রঙ তামাশা সবাইকে ছাপিয়ে যায়। কিশোর কিশোরী ছেলে মেয়েদের জন্য বিয়ে বাড়িটা সবথেকে মজার স্থান। আমারও ভালো লাগে। অন্তত সবার মুখে হাসি দেখা যায়। আসলে দেখতে দেখতে কখন যে আমার বিয়ের বয়স হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। সরকারি হিসেবে ছেলেদের বিয়ে করার নূন্যতম বয়স একুশ বছর, আমার চলছে সাড়ে চব্বিশ। পড়াশোনা শেষ করে মাত্র একটা চাকরীতে ঢুকলাম।ঠিক চাকরী না, একটা বেসরকারী ব্যান্কে ইন্টার্নীতে আছি। আমি নিজেই বুঝতে পারি আমার বিয়ের বয়স হয়েছে, কারন এখন মেয়েদের সাথে প্রেম প্রেম খেলে আগের মত মজা পাই না। আজ গায়ে হলুদ। কিন্তু ভীষন আক্ষেপের বিষয় হল বিয়েটা আমার না। আমার মেঝ মামার বড় ছেলের বিয়ে। একদিন আগে থেকেই আমরা সবাই মেঝ মামার বাড়িতে। বিশাল তিনতলা বাড়ি, ঢাকা শহরে আমার মামার বাড়িটিই যৌথ পরিবারের জন্য বেস্ট বলে আমার কাছে মনে হয়। আর চার মামার একমাত্র বোনের একমাত্র ছেলে হওয়াতে আমার কদর অন্যরকম। বিয়ের বাজেটের একটা অংশ আমার হাতে দেয়া হয়েছে ডেকোরেশন জন্য। নিজেকে খুব দ্বায়িত্বশীল ছেলে বলবো না। কারন? একটু পরেই জানবেন।
সকাল থেকেই মন মেজাজ একশো তিন ডিগ্রি গরম। এদিকে এবার বেশ গরমও পড়েছে। আবহাওয়া অফিসে এসি চলে তাই তারা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বলে, আমার মনে হচ্ছে কম হলেও ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হবে। আমার মেজাজ গরম হওয়ার অবশ্য অন্য একটি কারন আছে। এত আশা নিয়ে বিয়ে বাড়িতে এলাম, অথচ এখনো কোন সুন্দরী মেয়ে দেখলাম না ! এটা কেমন কথা?
বিকেল হয়ে এসেছে। মন খারাপ নিয়েই কাজিনদের সাথে আড্ডা দিতে লাগলাম বাড়ির ছাদে। স্টেজ সাজাতে হবে। বিয়ে বাড়িতে যে স্টেজ সাজায় তার দিকে সবার একটা এক্সট্রা নজর থাকে, বিশেষ করে মেয়েদের। মেয়েরা দ্বায়িত্বশীল ছেলে ভালোবাসে, কিন্তু স্টেজ সাজানো যে খুব একটা দ্বায়িত্বের কাজ সেইটা আমার কাছে মনে হয় না। আড্ডায় প্রান পাচ্ছি না, তাই ছাদের একপাশে রেলিং এর কাছে যেয়ে উদাস প্রেমিকের ভঙ্গীতে দাড়ালাম। নীচে চোখ পড়তেই আমার চোখ ছানাবরা। এ কি দেখলাম আমি! এও কি সম্ভব! একটা মেয়ে এত্ত সুন্দর হতে পারে? আহা! কি সুন্দর চোখ, সুইটেবাল নাক, মিষ্টি ঠোঁট, রেশমি চুল, কি সুন্দর ফিগার, মেয়েতো নয় যেন টইটম্বুর ভরা কলসি! কেয়ামতের আগে এই শেষ সময়ে এত সুন্দর মেয়ে খোদা কিভাবে বানালো? কিভাবে ? পুরাই টাস্কি খাইয়া গেলাম।
রিনিঝিনি সূর তুলে ভারা কলসি আমাদের বিয়ে বাড়িতেই আসছে। নিশ্চই বিয়েতে ইনভাইটেড। আমার শীতের ঝরা পাতা যেন হঠাৎ করেই দুইমাস এগিয়ে বসন্ত ছুঁয়ে দিলো। প্রান ফিরে পেলাম। আমাকে অবাক করে দিয়ে ভরা কলসি নীচ থেকে আমার দিকে তাকালো। আমার চারিদিকে হিন্দি সিনেমার মত ঝরো বাতাস আর গোলাপের পাপড়ি উড়ে যেতে লাগলো। ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক, " জাব সে তেরে ন্যায়না মেরে ন্যানোসে লাগে রে...."
এরই মধ্যে কখন যে আমার এক চামবাজ মামাত ভাই এসে আমার পাশে দাড়িয়েছে খেয়াল করিনি। বদমাস আমাকে খোঁচা দিয়ে বললো, " ভাই, মাইয়াটা জাস্তি, তাই না?" নাহ, এইটা সহ্য করা যায় না। আমি মামাত ভাইকে স্ট্রেট বললাম, " দেখ আমার নজর পরছে এই মেয়ের উপরে, সুতরাং এইটা তোর ভাবি। সাবধান।" এইবার হারামি বাংলা সিনেমার ভিলেনের হাসি দিয়ে বললো, " এই মেয়ে আমার কাজিন হয়। আমার চাচার মেয়ে।"
কিছুক্ষন পরে ভরা কলসি ছাদে এসে হাজির, আর আমি হা করে তাকিয়ে আছি। আমার হার্টবিট বেড়ে গেছে আর ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক বাজতেছে," এক লারকি কো দেখা তো এইসা লাগা......।" আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম যে জেরিন, মৌমি, তুশি কিংবা অবনীর সাথে প্রেম করার সময়তো আমার এমন ফিলিংস হয় নাই! কিন্তু এই মেয়েকে দেখেই আমার চারপাশে কেমন অদৃশ্য রোমান্টিক গান বাজতে থাকে। তাহলে কি আমি সত্যি প্রেমে পরে গেলাম নাকি? অ্যা বার্নিং কোশ্চেন!
Post Comment